Bangladesh Journalist Institiute
গবেষণা হয় না ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে
জসিম উদ্দিন রাজা : কিছু বইপত্র আর পত্রিকা ছাড়া গবেষণার কোনো উপকরণই নেই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। প্রতিষ্ঠার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কোনো গবেষণা কার্যক্রম।
খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার
নামে প্রতিষ্ঠিত রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখানে ভর্তি হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গবেষকরা। বাধ্য হয়ে এখন তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সুপারিশ ও আচার্যের অনুমোদন নিয়ে ২০০৯ সালে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম সিন্ডিকেট সভায় ইনস্টিটিউটে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, গবেষণার বিষয় আছে, গবেষকও ভর্তি হয়েছেন। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ২৩ গবেষক ভর্তি করেও এখনো শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি, প্রণয়ন করা হয়নি সিলেবাসও।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে গবেষকরা দুই বছরের এমফিলের জন্য ১৯ হাজার এবং তিন বছরের পিএইচডির জন্য ২৩ হাজার করে টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, গবেষণা কার্যক্রম না চললেও প্রতিষ্ঠার পর ছয় বছর ধরে ঠিকই বেতন পাচ্ছেন ছয় কর্মকর্তা ও চার কর্মচারী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন এই চিত্র— জানতে চাইলে এর জুনিয়র রিসার্চ অফিসার আবু সাঈদ মো. আহসান সিদ্দিকী বলেন, আমরা এখানে নামমাত্র পড়ে আছি। আমাদের কোনো কাজ নেই। এখনো গবেষণা কাজ ভালোভাবে শুরু হয়নি। তাই সব সময় স্টাফরা উপস্থিত থাকেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণায় অবদান রাখতে এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উমর ফারুকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
গবেষণার জন্য ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান উপাচার্য ২০১৩ সালের ৯ মে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার বুঝে নেন। এরপর ইনস্টিটিউটটি চালুর ব্যাপারে কোনো সভাই আহ্বান করেননি। কেবল তার (উপাচার্য) উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা ইনস্টিটিউটি দেশের গবেষণায় কাজে আসতে পারছে না।
গবেষণার জন্য এখানে ভর্তি হওয়া অনেকেই নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিয়েছেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গবেষণা শেষ করতে না পারায় চরম বিপদে পড়েছেন তারা। অন্য আর কাউকে ধোকা না দিয়ে দ্রুত সিলেবাস প্রণয়নসহ গবেষণা কাজ শুরু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরিরত মো. সায়েদ আলী বলেন, ‘২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে গবেষণার উদ্দেশে ছুটিতে আছি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়েছে। গবেষণার কাজ শেষ করা নিয়ে চরম বিপদে আছি।
রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নাজুক অবস্থার কারণে গবেষণা ছেড়ে দেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামেই গবেষক হিসেবে ভর্তি হয়েছিলাম। ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে তাগিদ দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আন্তরিকতা দেখিনি। বাধ্য হয়ে ছেড়েই দিয়েছি।
গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা বলেন, গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যে কাজ সেটাই বুঝলাম না। কেবল নামসর্বস্ব ইনস্টিটিউট ছাড়া এটি আর কিছু নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ওয়াজেদ রিসার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘কোনো সিলেবাস প্রণয়নই হয়নি এখনো। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যার টেন্ডার এখনো শেষ করতে পারিনি। তবে খুব শীঘ্রই গবেষণা কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
About Bangladesh Journalist Institiute -
Author Description here.. Nulla sagittis convallis. Curabitur consequat. Quisque metus enim, venenatis fermentum, mollis in, porta et, nibh. Duis vulputate elit in elit. Mauris dictum libero id justo.