জসিম উদ্দিন রাজা : সভ্যতার বিকাশের সবচেয়ে বড় বাহক হচ্ছে পোশাক। পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্ব যেমন ফুটিয়ে তোলে, তেমনি একজন
ব্যক্তিত্ববান মানুষকে বানিয়ে ফেলতে পারে অতি সাধারণ।
তাই আপনি জব হোল্ডার হোন কিংবা ছাত্র অথবা একেবারেই সাধারণ মানুষ, পোশাক নির্বাচনে আপনাকে সবসময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং আপনার নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ রুচিশীল পোশাকই আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।
ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ঘেঁটে দেখলে আমরা দেখতে পাই, আগের দিনের রাজা-বাদশারা যখন জনতার খুব কাছে যেতে চাইতেন তখন তারা ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। অর্থাৎ পোশাক দ্বারাই মানুষের পরিচয় নির্নয় করা যায়। আবার সামরিক বাহিনীগুলোতেও এর প্রচলন দেখা যায়।
সামরিক বাহিনীগুলো বা বিভিন্ন স্ট্রাকচারড কর্পোরেট হাউজগুলোতেও এমন পোশাকের মাপকাঠি দেখা যায়। তাই এটা খুব সহজেই বোঝা যায় মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে এর ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই পোশাক নির্বাচনে সবারই একটু মনোযোগী হাওয়া উচিত।
তাছাড়া কিছু বিষয় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখা উচিত। যেমন, যে পোশাকটি আপনি পড়েছেন সেটা আপনার রুচি এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কেমন মানানসই। আবার অনেক সময় পোশাক পড়তে হয় পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। আপনি একটি ভালো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পোশাক আপনাকে পড়তে হবে। অর্থাৎ ড্রেসকোড অনুযায়ী আপনাকে ড্রেস পড়তে হবে। এখন আপনি যদি জিন্স, টি-শার্টে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন আর আপনার পেশার সঙ্গে যদি সেটা না যায় তবে সেটা আপনাকে এড়িয়েই চলতে হবে।
আবার আপনার কাজ যদি আপনার পোশাক নির্বাচনে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি না করে তবে আপনি আপনার রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রেস নির্বাচন করতে পারেন। তবে পেশাজীবী নারীদের জন্যে ড্রেস নির্বাচন একটি বড় ব্যাপার। পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যই শুধু নয় এখানে অনেক ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয় পোশাক নির্বাচনে। অনেক সময় শুধু স্মার্টনেসের দিকটা বিবেচনায় নিলে চলে না, বিবেচনা করতে হয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশ।
আপনার পোশাক আপনাকে যেমন আপনার সম্মান এনে দেবে, তেমনি এটা আপনার জন্যে বয়ে আনতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনা। তাই মেয়েদের ক্ষেত্রে পোশাক নির্বাচন একটু স্পর্শকাতর বিষয়। এখানে একটু অসামঞ্জস্য আপনার জন্যে হতে পারে বিরাট বিব্রতকর বা অস্বস্তির ব্যাপার।
শুধু কর্মক্ষেত্রে নয় যে কোনো অনুষ্ঠানেও নারীদের পোশাক নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং পোশাক নির্বাচনে শুধু সৌন্দর্য বিবেচনায় নিলে হবে না, বিবেচনায় নিতে হবে আপনার স্বচ্ছন্দ এবং আশেপাশের পরিবেশ। আমাদের দেশের মানুষ একটু রক্ষণশীল তাই যে কোনো অনুষ্ঠানের পোশাক নির্বাচনে খেয়াল রাখতে হয় সেখানকার অভ্যাগতদের ব্যাপারটিও। অভ্যাগতরা হয়তো বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হতে পারে। হতে পারে সামাজিকভাবেও বিভিন্ন অবস্থানের। তাই যেখানে শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেনী অভ্যাগত সেখানে আপনি সেই শ্রেণীর বিষয়টি মাথায় রেখে ড্রেস নির্বাচন করতে পারেন।
আবার যেখানে সকল শ্রেণীর মানুষ বা সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকে সেখানে সে বিষয়টি মাথায় রেখে ড্রেস নির্বাচন করতে পারেন। অনেকেই একটু ‘ডিফরেন্ট’ ড্রেস পরিধান করতে ভালোবাসেন। তাদের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়, এই ডিফরেন্সি যেন দৃষ্টিকটু না হয়। যারা ভার্সিটি পড়ুয়া তাদের জন্যেও পোশাক একটি ‘প্যাশন’। তবে সব কিছুর উর্ধ্বে কিন্তু সামাজিক অবস্থান। আজকাল অনেক মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ছেলে-মেয়েরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। তারা হয়তো তাদের অন্য সহপাঠীদের অনুকরণে ড্রেস নির্বাচন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের খেয়াল রাখা উচিত দিনশেষে আপনি আপনার আপন পরিবেশেই ফেরত যাবেন। সেখানে আপনার এই ড্রেস কতটা সামঞ্জস্যপূর্ন সেটাও আপনাকে সমন্বয় করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আপনার পরিবারের স্ট্যাটাসও।
